Showing posts with label বিজ্ঞান প্রযুক্তি. Show all posts
Showing posts with label বিজ্ঞান প্রযুক্তি. Show all posts

বাংলাদেশের বাইক :: বাজাজ পালসার 135 LS ( The Road King)

বাংলাদেশের বাইক  :: বাজাজ পালসার 135 LS ( The Road King)
আমরা আজকে যে বাইকটি সম্পর্কে জানব সেটি হল আমাদের খুবই চেন একটা বাইব বাজাজ পালসার ১৩৫ এল এস । বাইকটি খুবই স্টাইলিশ এবং যারা নতুন রাইডার তাদের জন্য একদম পারফেক্ট । বাইকটির বাংলাদেশের বাজারে খুব বেশী সুবিধা করতে না পারলেও এই বাইকটির পারফরমেন্স ও লুকিং সবদিক থেকে অন্যান্য ১৩৫ সিসি বাইকের থেকে এগিয়ে আছে । তো চলুন আজ আমরা বাজাজ পালসার ১৩৫ বাইকটির সম্পর্কে জেনে নিই ।

 ওভারভিউ :

বাইকটির লুকিং এর সাথে পালসার ১৫০ এর কোন মিল আছে বলে আমার মনে হয় না । এটি একটি স্বতন্ত্র স্টাইল ও লুক নিয়েই এসেছে । এর স্টাইলিশ হেডলাইড , বসার সিট , পেছনের টেইল লাইট সবকিছুই যেন একটু অন্য বাইকের সাথে ভিন্ন ও এগুলো চরম স্টাইলিশ লেগেছে আমার কছে । এর ড্যাসবোর্ডে একটি ডিজিটাল স্পীডোমিটার ও একটা এনালগ ট্যাকোমিটার রয়েছে । এছাড়া রয়েছে ডিজিটাল ফুয়েল ইনডিকেটার । বাইকটি বর্তমাতে ককটেল ওয়াইন রেড , মিডনাইট ব্লাক ও প্লাজমা ব্লু কালারে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে । এর ফুয়েল ট্যাঙ্কের সাথে একটা ছোট পাখনা এর স্টাইলটাকে আরও ফুটিয়ে তুলেছে । বসার সিটের ক্ষেত্রে এটার ড্রাইভিং সিটের থেকে পেছনের সিটটা বেশ উচু যেটা বাজাজের অন্য কোন বাইকে দেখা যায় না ।

SpeedometerDigital
TachometerYes
Tachometer TypeAnalogue
Shift LightNo
Electric StartYes
TripmeterYes
No Of Tripmeters2
Tripmeter TypeDigital
Low Fuel IndicatorYes
Low Oil IndicatorNo
Low Battery IndicatorYe
Fuel GaugeYes
Digital Fuel GaugeYes
Pillion SeatYes
Pillion FootrestYes
Pillion BackrestNo
Pillion GrabrailYes
Stand AlarmYes
Stepped SeatYes
Antilock Braking SystemNo
KillswitchYes
ClockNo

ইন্জিন :

আসলে ১৩৫ সিসির বাইক হলেও এটার ইন্জিনকে ১৩৫ এর ইন্জিন বলা যায় না । কারণ এটার ইন্জিন পাওয়ার বাংলাদেশের অনেক ১৫০ সিসির বাইকের থেকেও অনেক বেশী । বাইকটিতে রয়েছে একটি ১৩৫ সিসির এয়ার কুলড ইন্জিন যেটা ১৩ Bhp পাওয়ারর ও 11Nm টর্ক উৎপন্ন করতে পারে । এর একটি ৫ স্পীড গিয়ারবক্স রয়েছে । এটি একটি সিঙ্গেল সিলিন্ডারের ইন্জিন এবং সিলিন্ডারে ৪ টি ভালব যুক্ত রয়েছে । বাইকটির হর্স পাওয়ার বাংলাদেশের যেকোন ১৩৫ বা ১৫০ কে চ্যালেন্জ করার মতই । এর ইগনিশন সিস্টেম হিসেবে রয়েছে ডিজিটাল টুইন স্পার্ক ইগনিশন ।  মোট কথা হল ,  একটি ১৩৫ বাইকের কাছে এর থেকে বেশী কোন কিছু কারোরই আশা করা উচিৎ নয় । এটা ৬০ কিমি. স্পীড তুলতে টাইম নেয় মাত্র ৫ সেকেন্ড এবং বাইকটির টপ স্পীড ১১৫ কি.মি./ঘন্টা ।

Engine
Displacement (cc)135
Cylinders1
Max Power13 bhp @ 9000 rpm
Maximum Torque11 Nm @ 7500 rpm
Bore (mm)54
Stroke (mm)59
Valves Per Cylinder4
Fuel Delivery SystemFuel Injection
Fuel TypePetrol
IgnitionDigital Twin Spark Ignition
Spark Plugs (Per Cylinder)2
Cooling SystemAir Cooled
Transmission
Gearbox TypeManual
No Of Gears5
Transmission TypeShaft Drive
ClutchWet Multiplate

ব্রেকিং ও চাকা :

বাইকটিতে ১৩ ইন্চি সাইজের চাকা রযেছে । এর সামনের টায়ারের সাইজ 2.75 x 17 এবং পেছনের টায়ারের সাইজ হল 100 / 90 x 17 । এর টায়ারগুলো টিউবলেস । পেছনের চাকার শেপটা আমার কাছে একটু রেসিং স্টাইলের মনে হয়েছে । চাকাটি ১৩৫ সিসি বাইকের তুলনায় একটু মোটা ও গোলগাল । কিছূটা ইয়ামাহা R15 স্টাইলের । আমার মনে হয় না ড্রিফটিংএর সময় এটা আপনার সাথে কোন সময়ই বেইমানী করবে । বাইকটির সামনে ২৪০ মিমি . সাইজের একটা ডিন্ক ব্রেক ও পেছনের চাকাতে ১৩০ সাইজের একটি ড্রাম ব্রেক রয়েছে । ফলে বাইকটির কন্ট্রোলও দারুন । বাজাজের বাইক ডিসকভার ১৩৫ এর ম্যাক্সিমাম এডিশনেই কোন ডিস্ক ব্রেক নেই । এর ব্রেকিং সিস্টেমের মাধ্যমে আপনি ৬০ কিমি/ঘন্টা স্পীড থেকে মাত্র ১৯ মিটারের মধ্যেই বাইকটি থামাতে পারবেন যেটা বাইকটির জন্য যথেষ্ট ভাল পারফরমেন্স বলে আমার মনে হয় ।


Braking
Brake TypeDisc
Front DiscYes
Front Disc/Drum Size (mm)240
Rear DiscNo
Rear Disc/Drum Size (mm)130
Calliper Type--
Wheels & Tyres
Wheel Size (inches)17
Front Tyre2.75 x 17
Rear Tyre100 / 90 x 17
Tubeless TyresNo
Radial TyresNo
Alloy WheelsYes

ডাইমেনশন ওয়েট ও ইলেকট্রিক্যালস :

বাইকটির ওভারঅল ওজন হল ১২২ কিলোগ্রাম । এর দৈর্ঘ ১৯৯৫ মিমি এবং উচ্চতা ১২১৫ মিমি . । বাইকটির গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৬৫মিমি. যেটা অনেক ১৫০ কেও হার মানায় । বাইকটিতে বসে চালানোর সময় আপনি বেশ কমফোর্ট ফিল করবেন এবং অনেক স্পীড তোলার পরও আপনার মনে  হবে বাইকটি আপনার ফুল কন্ট্রোলে রয়েছে  । বাইকটির বসার সিটের হাইট মাটি থেকে ৭৬৫ মিমি . যেটা খুবই স্বাভাবিক । এর পেছনের সিটটা পেছনের চাকা থেকে বেশ উচু যেটা এটাকে আরও স্টাইলিশ হিসেবে সো করে ।

বাইকটির ইলেকট্রনিক্স কিট হিসেবে রয়েছে ১২ ভোল্টের একটি ব্যাটারী । এর সামনের দিকে ৩৫ ওয়াটের একটি হেডলাইট রয়েছে যেটা অনেকটা ইয়ামাহা এফ জেড এর সাথে মেলানো যায় যদিও স্টাইল ও ডিচাইনে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে । এর টেইল লাইট হিসেবে রয়েছে এলইডি লাইট এবং এর স্টাইলটা সম্পূর্ন ইউনিক । এটা দেখলেই আপনি বাইকটির প্রেম পড়ে যাবেন ।

Dimensions & Weight
Kerb Weight (Kg)122
Overall Length (mm)1995
Overall Width (mm)765
Overall Height (mm)1215
Wheelbase (mm)1325
Ground Clearance (mm)165
Seat Height (mm)800
Electricals
Electric System12V Full DC
Battery12 V (Low Maintenance Battery)
Headlight TypePilot Lamps Type
Headlight Bulb Type35/35 W with 2 pilot lamps
Brake/Tail LightLED Light
Turn SignalYes
Pass LightYes



জ্বালানী ও অন্যান্য :

পালসার ১৩৫ এলএস এর ফুয়েল ট্যাঙ্ক এ জ্বালানী ধারণ ক্ষমতা ৮ লিটার এবং রিজার্ভ এ জ্বালানী ধরে ২.৫ লিটার । এটি এক লিটার পেট্রোলে ৬৫ কিলোমিটার যায় যেটা অনেকটা অবিশ্বাস্য । কারণ এমন পারফরমেন্সের যেকোন বাইক ১ লিটার তেলে সবোর্চ্চ ৫০ কিলোমিটার যেতে পারে । সেখানে এটি প্রায় অন্যান্য ১০০ বা ১২৫ সিসির মত আপনাকে জ্বালানী সাশ্রয় করছে । কিন্তু এর জন্য আপনি বাইকটির পারফরমেন্সের কোন ঘাটতি পাচ্ছেন না । এটিতে বক্স টাইপের ডায়মন্ড চ্যাসিস রয়েছে এবং ফ্রন্ট সাসপেনশন হিসেবে রয়েছে এন্টি ফ্রিকশন ব্রাশের সাথে টেলিস্কোপিক সাসনেশন এবং পেছনে রয়েছে 5 way adjustable, Nitrox shock absorber । মোট কথা জ্বালানীর দিক থেকে ও সাসপেনশনের দিক থেকে চিন্তা করলেও বাইকটি অনেক ভাল বাইককে হার মানিয়ে দিতে পারে । আমি চ্যালেন্জ করে বলতে পারি , এই বাইকটি নিয়ে আপনি বাংলাদেশের যেকোন ১৩৫ বা অনেক ১৫০ বাইকের সাথে রেসিংএর জয়ী হবেন ।
Fuel Efficiency & Range
Fuel Tank Capacity (Litres)8
Reserve Fuel Capacity (Litres)2.5
FuelEfficiency Overall (Kmpl)64
Fuel Efficiency Range (Km)510
Chassis & Suspension
Chassis TypeBox Type Diamond Type
Front SuspensionTelescopic, with anti-friction bush
Rear Suspension5 way adjustable, Nitrox shock absorber
সবমিলিয়ে বাইকটি বাংলাদেশের মধ্যে সেরা ১৩৫ সিসির বাইক আমরা বলতেই পারি । বাইকটির হ্যান্ডস অন রিভিউ বা ওনারশীপ রিভিউ আপনারা দেখে আসতে পারেন Bikebd.com সাইট থেকে । তাহলে মনে হয় বাইকটির সম্পর্কে বুঝতে আপনাদের সুবিধা হবে বা আপনাদের মনে কনফিউশন দূর হবে ।

পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা ! এক আকাশে একসাথে তিনটি সূর্য! (ভিডিও)

পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা ! এক আকাশে একসাথে তিনটি সূর্য! (ভিডিও)
আমরা জানি পৃথিবী থেকে মাত্র একটি সূর্য দেখা যায়। কিন্তু এই ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে একটি নয়, বরং তিন তিনটি সূর্য আলো ছড়াচ্ছে মঙ্গোলিয়ার আকাশে।
sun
দি গার্ডিয়ান নিউজ সাইটে ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত ভিডিওটি দেখে অবাক হতে পারেন অনেকেই, কিন্তু আজ থেকে শতাব্দি শতাব্দি আগে প্রাকৃতিক এই ঘটনাকে অপয়া বলে মনে করা হতো। এই ঘটনাকে বলা হয় পারহেলিয়ন। বাতাসে ভেসে থাকা বড় ষড়ভুজ তুষারকণার মধ্য দিয়ে আলোর প্রতিসরণের ফলে একটি সূর্যের জায়গায় দেখা যায় তিনটি সূর্য। এসব তুষারকণা প্রিজমের মতো কাজ করে। অনেক সময়ে এর কারণে সূর্যের চারপাশে একটি গলাকার রিং এর মতো আলোকছটা দেখা যায়। সূর্যোদয়ের সময়ে এ ঘটনা ঘটলে সানডগগুলো ধীরে ধীরে সূর্য থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। সূর্যের কাছে থাকলে এদেরকে লালচে মনে হয় এবং দূরে যেতে থাকলে এরা ক্রমশ হলুদ, কমলা এবং শেষের দিকে নীলচে হয়ে যায়।
 
মঙ্গোলিয়ায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায় আসল সূর্যটি মাঝখানে আছে এবং এর দুইপাশে সূর্যের দুইটি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। সূর্যের এই প্রতিফলনগুলোকে বলা হয় সানডগ বা ফ্যান্টম সান। যদিও এই ঘটনাটি বেশ বিরল, এদেরকে পৃথিবীর যে কোনো এলাকায় দেখা যাওয়া সম্ভব।
খ্রিষ্টপূর্ব ৩৮৪ এবং ৩২২ সালের মাঝে এক সময়ে এই ঘটনা লিপিবদ্ধ করেন অ্যারিস্টটল। খ্রিষ্টপূর্ব ৩১০ এবং ২৪০ সালের মাঝে কবি আরাটাস নিজের লেখাতেও এদের ব্যাপারে বলেন এবং বলা হয় আসন্ন ঝড়ের লক্ষণ হলো এসব পারহেলিয়ন। আবার দ্বিতীয় খ্রিস্টাব্দের এক ভবিষ্যৎদ্রষ্টা অ্যার্টেমিডোরাস এদেরকে দেবতার সাথে তুলনা করেন। রোমান লেখক সিসেরো এবং সেনেকার লেখাতেও এদের কথা বলা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন লেখায় এদেরকে যুদ্ধবিগ্রহের অশুভ লক্ষণ হিসেবে দেখা যায়।
ভিডিও দেখুন এখানে

Online থাকা যে কোন পিসি (pc) কে Shutdown/Restart?Logoff করুন ...........

Online থাকা যে কোন পিসি (pc) কে Shutdown/Restart?Logoff করুন ...........
বন্ধুগন, আগেই বলে নিশ্চিত অন্যায়কারীকে কেউ ভালবাসে না। অতএব জানার জন্যে জ্ঞান, অজানার জন্যে নয়। তো শুরু করছি: আপনার প্রথমে Broadband High Speed Internet Connection থাকতে হবে। এবং আপনি যার PC কে Shutdown/Restart/Logoff করবেন তার IP Address আপনার জানা থাকতে হবে যেমন কোন না কোন বন্ধুর IP Address তো অবশ্যই জানেন অথবা কোন Cyber Cafe থেকে IP Address Collect করতে পারেন।
আর যে কারো IP Address বাহির করার জন্যে ” angry ip scanner 2.41″ software টি Google থেকে search দিয়ে Free Download করে নিতে পারেন।এবং আপনি এটাও বুঝতে পারবেন ,সেকি Online এ নাকি offline এ ??
এবার কাজের কথায় আসি:
==========================================
•প্রথমে———-আপনি—–run—–থেকে——-cmdযান।
•লিখুন:———–shutdown-i
•তারপর:———-Enter(click/press)
•তারপর:একটা—-dialogueBox———আসবে(RSD)
•তারপর: what do you want these computer to do >>Shutdown/Restart/Logoff(যে কোন একটি choose করুন)
•তারপর: Option থেকে (যে কোন একটি choose করুন) যেটা দেয়া আছে সেটি——————default.
•তারপর: Add এ click. And একটা dialogue Box আসবে। সেখানে IP Address টা বসান যেটি দিয়ে আপনি তার PC কে Shutdown/Restart/Logoff যে কোন একটি করতে চান। চিএটি দেখুন……………….


•সবার শেষে Comment করে ok/Enter দিন।
এখন cmd দেখুন: যদি Succeed হয় বুঝবেন তার PC আপনার দেয়া সময় অনুযায়ী Off হবে।আর তখন আপনি না চাইলে লিখুন: shutdown -a
•# আপনি নিজের PC Manually করে দেখতে পারেন।
@ check করুন cmd: shutdown -t
• এটা অনেকে জানেন। যারা জানেন না এটা তাদের জন্যে। আর কাজ ইনশাআল্লাহ হবে।প্রযোজ্য Broadband High Speed Internet Connection.
ভাল লাগলে মন্তব্য করবেন
## এটী কারোর ক্ষতির জন্য না ।just শিখে রাখা কাজে লাগতে পারে ।
আজ একটি বিষয় আপনাদের সাথে বলবো সেটি হচ্ছে আপনি যেটি পাবেন সেটি শিখে রাখুন একদিন সময় আসবে যখন আপনার এগুলো লাগবে। তখন আপনার অনুভূতি কেমন হবে ?

QR কোড সম্পর্কে জানতে চান? জেনে নিন QR কোড সম্পর্কে সাদামাটা কিছু কথা। আরও রয়েছে QR কোড তৈরি এবং স্ক্যান করার কিছু অ্যাপস ডাইরেক্ট ডাউনলোড লিংক!

আপনারা নিশ্চয়ই এর আগে বার কোডের নাম শুনেছেন? যারা শুনেননি বা চিনেন না তাঁরাও এই বার কোড দেখেছেন এটা আমি গ্যারান্টি দিতে পারি। আপনারা যে বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবার খান সেগুলোর প্যাকেটেত্র পিছনে একগুলো কালো দাগের লম্বা লম্বা সংকেত আছে না? এগুলাকেই বলে বার কোড। এইবার চিনেছেন তো?
ভাবছেন আমি QR কোডের কথা শিরোনামে বলে আবার বার কোড নিয়ে বলছি কেন? কারণ বারকোডের বড় ভাই QR কোড। বর্তমানে প্রচুর জনপ্রিয় এই QR কোড। কিন্তু QR কোড বা বার কোড দিয়ে কি করে সেটা ভাবছেন? এগুলোতে আসলে ডাটা রাখা হয়। খুবই অবাক করা কথা তাইনা? যদিও এই বিজ্ঞানের যুগে আমরা কিছুতেই অবাক হইনা। কারণ অবাক করা নানা প্রযুক্তি আমাদের সচরাচর ব্যবহার হয়। আগে বার কোডের প্রচলন থাকলেও এখন QR কোড বেশি জনপ্রিয়। আমরা এখন প্রায়ই পত্রিকায় বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে এই QR কোডের ব্যবহার দেখতে পেয়ে থাকি। যেমন ধরুন, পেপারে একটি বিজ্ঞাপনে অ্যাপস ডাউনলোড করতে বলা হয়েছে। তো সেখানে ডাউনলোড লিঙ্কও দেয়া আছে আবার একটি QR কোডও দেয়া আছে। অ্যাপসটি ডাউনলোড করতে নিশ্চয়ই আপনাকে ব্রাউজারে লিংকটি টাইপ করে ভিজিট করতে হবে এবং ডাউনলোড করতে হবে। আর QR কোডটির মাধ্যমে আরও সহজে ডাউনলোড করতে পারবেন। মোবাইলের QR কোড স্ক্যানারটা বের করে কোডটির উপরে ক্যামেরা নিয়ে গেলেই আপনাকে সোজা নিয়ে যাবে ওই ডাউনলোড লিংকে। এটি একটি উদাহরন মাত্র। এমন নানা কাজে বিভিন্ন ডাটা ছোট একটি QR কোডে রেখে দেয়া যায়। এখন একটি কোড ৭০৮৯ টি সংখ্যা বা ৪২৯৬ টি অক্ষর ধারণ করতে পারে! একটি QR কোড  QR কোডও বার কোডের মত দেখতে কিন্তু এদের চেহারা একটু আলাদা। কিন্তু এদের চেহারা যাই হোক আপনি কিন্তু এদেরকে আমাদের এই সাধারণ চোখে পড়তে পারবেন না। এদেরকে পড়তে হলে প্রয়োজন স্ক্যানার। আপনারা প্রায়ই পূর্বে বার কোড স্ক্যানার পাওয়া যেত। কিন্তু যুগ তো এখন অনেক ডিজিটাল। এখন আর এসবের প্রয়োজন হয়না। হাতের স্মার্টফোনটাই হলো এই QR কোড স্ক্যানার। প্রয়োজন শুধু ছোট একটি স্ক্যানার অ্যাপস। চিন্তা নাই QR কোড বানানো সাথে স্ক্যান করা দুইটাই শেখানোর চেষ্টা করব।
QR Code এবং Bar Code
QR কোডের ব্যবহার
এখন আসি কিভাবে আপনিও একটি QR কোড বানাবেন? আপনি চাইলে লেখা, ছবি, লিংক, ইমেজ, এমপিথ্রি, ফেসবুক লিংক ইত্যাদি যা চান সেরকম ডাটা দিয়ে QR কোড বানাতে পারবেন। এই লিংক -এ পিসি থেকে ভিজিট করে আপনি QR কোড তৈরি করে নিতে পারবেন। বিস্তারিত টিউটোরিয়াল লিখছিনা। খুব কষ্ট হবেনা, দেখলেই বুঝতে পারবেন সহজেই! তবে মোবাইল থেকে সম্ভবত এই লিংক থেকে কোড তৈরি করতে পারবেন না। মন খারাপ করার কিছু নেই, অ্যান্ড্রয়েড ফোন ইউজাররা নিচের যেকোন একটি অ্যাপস ডাউনলোড করে নিন।
কোড তৈরি তো হলো কিন্তু এবার তো সেই কোড পড়তে হবে তাইনা? হ্যাঁ, আগেই তো বলেছি এই কোড পড়তে পারে শুধু কোড স্ক্যানারই। এর জন্য ব্যবহার করতে পারবেন আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনই। QR কোড স্ক্যান করারও কিছু অ্যাপস নিচে দিলাম। পছন্দমত একটা ডাউনলোড করে নিন। তারপর অ্যাপস ওপেন করে যেকোন QR কোডের উপর ধরলেই পেয়ে যাবেন সেই কোডে কি বলা আছে তাঁর লুকায়িত ফলাফল!
আমিও বানিয়ে রেখেছি একটি QR কোড আপনাদের পরীক্ষা করার জন্য। কোড স্ক্যানার ডাউনলোড করে আমার তৈরি নিচের কোডটিকে স্ক্যান করে দেখুন তো!

স্বপ্ন কি ? মানুষ কেন স্বপ্ন দেখে ? স্বপ্ন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এবং ইসলাম ধর্মে স্বপ্নের ব্যাখ্যা………

স্বপ্ন কি ? মানুষ কেন স্বপ্ন দেখে ? স্বপ্ন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এবং ইসলাম ধর্মে স্বপ্নের ব্যাখ্যা………

স্বপ্ন কি ?

মানুষ জীবনের ৩৩% সময় ঘুমিয়ে কাটায়। স্বপ্ন মানুষের ঘুমন্ত জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। নিদ্রিত অবস্থায় ইন্দ্রিয়গণ স্তিমিত হয় কিন্তু সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয় না। তাই নিদ্রাকালে নানারূপ কল্পনাশ্রয়ী চিন্তা ও দৃশ্য উদিত হয়। এই সব দৃশ্য দেখাকে একরকমের “স্বপ্ন দেখা বলা হয়। নিদ্রিত অবস্থায় জাগ্রত অবস্থার ধারাবাহিকতাকেও স্বপ্ন বলা যেতে পারে। স্বপ্নে নিজের কাছে নিজের নানারকম আবেগ, তথ্য ও তত্ত্বের প্রকাশ ঘটে। স্বপ্নে দেখা দৃশ্য জাগ্রত প্রতক্ষ্যের মতোই স্পষ্ট। আমরা স্বপ্ন দেখি অর্থাৎ স্বপ্ন মূলত দর্শন-ইন্দ্রিয়ের কাজ। স্বপ্ন দেখা অনেকটা সিনেমা দেখার মতো। তবে স্বপ্নে অন্যান্য ইন্দ্রিয়েরও গৌণ ভূমিকা থাকে। জাগ্রত অবস্থায় প্রতক্ষ্যের মাধ্যমে যেমন শরীরে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তেমনি স্বপ্ন দেখাতেও কিছু না কিছু শারিরীক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

মানুষ স্বপ্ন দেখে কেন ?

ঘুমের মধ্যেও ইন্দ্রিয়গণ বাইরের জগত থেকে সংবেদন গ্রহণ করতে পারে। এ সব সংবেদন ইচ্ছামতো প্রতিরূপে রূপান্তরিত হয়ে স্বপ্নদৃশ্যের সৃষ্টি করতে পারে। তবে স্বপ্নের মূল উপাদান তৈরি হয় স্বপ্নদ্রষ্টার দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতা, চিন্তা ও কর্ম থেকে। এবং স্মৃতি থেকে।

মানুষ কতটা স্বপ্ন দেখে ?

জন্মমুহূর্ত থেকেই শিশু দর্শন প্রতিরূপ ব্যতিত অন্যান্য প্রতিরূপের সাহায্যে স্বপ্ন দেখে। জন্মের তিন চার মাস পর থেকেই শিশুরা স্বপ্ন “দেখা” শুরু করে। দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা ঘুম সময়ের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং কৈশোরে ঘুম সময়ের ২০ থেকে ২২ শতাংশ স্বপ্ন দেখে। চল্লিশের পর থেকে ঘুম সময়ের ১২ থেকে ১৫ শতাংশ স্বপ্ন দেখা হয়। মানুষের বয়স যত বাড়তে থাকে স্বপ্ন দেখা তত কমতে থাকে। সুতরাং, প্রাকৃতিক প্রবণতা হচ্ছে মানুষ সর্বস্বপ্নহীন ভাবে পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে।

মানুষ কখন স্বপ্ন দেখে ?

ক্লান্ত মানুষ প্রথম দুই ঘন্টা ঘুমানোর সময় স্বপ্ন দেখে না। তখন শরীর পূর্ণ বিশ্রাম নেয়। স্বপ্ন দর্শন কালকে rapid eye movement period বলা হয়। নিদ্রাকালে যে সময় মানুষ স্বপ্ন দেখে না সে সময়টাকে  non rapid eye movement period বলা হয়। ঘুমের মধ্যে প্রায় প্রত্যেক ৯০ মিনিটে,  প্রায় ১০ মিনিট সময় ধরে REM  নিদ্রা দেখা যায়। ঘুমের মধ্যে ৪/৫ বার REM নিদ্রা হয়। অর্থাৎ প্রতিদিন মানুষ অন্তত ৪/৫ টি স্বপ্ন দেখে।

স্বপ্নের প্রকারভেদঃ

চরক-সংহিতা সাত প্রকার স্বপ্নের কথা বলেছে। বৌদ্ধ দর্শনে বর্ণিত হয়েছে ছয় প্রকারের স্বপ্ন।
জীবন চলার পথে মানুষ ভয়,
দুঃস্বপ্ন,
অতীত স্মৃতি,
ইচ্ছাপূরণ,
ভবিষ্যতের বার্তা,
আধ্যাত্মিক নির্দেশনা,
মুর্শিদের উপদেশ,
জ্ঞান লাভ ইত্যাদি নানারকম স্বপ্ন দেখে।

আধ্যাত্মিক স্বপ্নঃ

স্বপ্নের সাথে আধ্যাত্মিকতার সম্পর্ক নিবিড়। স্বপ্ন হচ্ছে মুর্শিদের কাছে পৌঁছবার, মুর্শিদ থেকে নির্দেশনা লাভের মহাসড়ক। স্বপ্নে মুর্শিদের সাথে সংযোগ বহুজনের একটা পরীক্ষিত পদ্ধতি। মুর্শিদের সাথে প্রেম থাকলে শিষ্য তাকে স্বপ্নে দেখবে এবং তার কাছ থেকে প্রতিটা বিষয়ে নির্দেশনা প্রাপ্ত হবে,  এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। স্বপ্নে যে শুধু আধ্যাত্মিক জ্ঞান প্রাপ্তি ঘটে তা নয়, স্বপ্ন সমীক্ষণের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক তত্ত্বও বিকশিত হয়।

স্বপ্নে ভবিষ্যতের বার্তাঃ

স্বপ্ন ভবিষ্যতের বার্তা বহন করতে পারে। পতঙ্গের গুরুমস্তিষ্ক থাকে না কিন্তু পতঙ্গেরা নার্ভক্রিয়ার সাহায্যে ভূমিকম্প, সূর্যগ্রহণ, আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুযোর্গের পূর্বাভাস পেয়ে থাকে। যন্ত্রের যন্ত্রনায় মানুষের মধ্যে ভবিষ্যতের পূর্বভাস পাবার শক্তিগুলো নিস্ক্রিয় হয়ে যায়। ঘুমের সময় গুরু মস্তিষ্কের কর্মকান্ড স্তিমিত হয়ে গেলে স্বতন্ত্র নার্ভক্রিয়া সক্রিয় হয়ে ভবিষ্যৎ বাণী পাঠায়। “বিভূতিযোগ” চর্চা করে যোগীরা স্বতন্ত্র নার্ভক্রিয়াকে সক্রিয় করতে পারেন।

স্বপ্নে ইচ্ছাপূরণঃ

স্বপ্নের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য - ইচ্ছাপূরণ । মানুষ অনেক কিছুই চায় কিন্তু পায় না। এমনও হয়, মানুষ আসলে কি চায় তাই সে জানে না। স্বপ্নে একদিকে চেয়ে না পাওয়া বস্তুগুলো পেয়ে তার ইচ্ছাপূরণ হয় অন্যদিকে স্বপ্ন দ্রষ্টা জানতে পারে আসলে সে কি চায়।

স্বপ্ন দেখার প্রয়োজনীয়তাঃ

স্বপ্ন দেখার জন্যই মানুষকে ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমাতে হয়। তা না হলে মানুষের শারিরীক বিশ্রামের জন্য ২/৩ ঘন্টা ঘুমই যথেষ্ট। সাধারণ মানুষের জন্য স্বপ্ন দেখা ঘুমের মতোই প্রয়োজন। কিন্তু আধ্যাত্মিক সাধনার একটা স্তরে উপনীত হলে স্বপ্ন দেখার কোন প্রয়োজন থাকে না বলে কোন কোন সাধক মন্তব্য করেছেন।

ঘটনা এবং স্বপ্ন একই সময়ে সংগঠিত হওয়াঃ

অনেক সময় এমন স্বপ্নও মানুষ দেখে থাকে যখন স্বপ্ন দেখার সময়ই ঘটনাটা ঘটছে। এমন ঘটনাও ঘটেছে - ছেলে বিদেশে থাকে, যে সময়ে সে স্বপ্নে তার বাবার মৃত্যু দেখেছে ঠিক সে সময়েই বাস্তবে তার বাবা ইন্তেকাল করেছেন। টেলিপ্যাথি ছাড়া অন্য কোনভাবে এমন ঘটনার ব্যাখ্যা করা যায় না।

স্বপ্ন স্মরণঃ

ঘুম থেকে জেগে উঠার পর অধিকাংশ স্বপ্নই ঠিকঠাক মনে থাকে না। অনেক সময় ঘুম ভাঙ্গার পর পর স্বপ্ন মনে থাকে কিন্তু যতই সময় যেতে থাকে স্বপ্ন ততই বিষ্মৃতিতে চলে যায়। কিন্তু কিছু স্বপ্ন আছে যা বাস্তব ঘটনার চেয়েও বেশি স্পষ্ট এবং উজ্জ্বল। এসব স্বপ্ন জীবনে কখনোই ভুলা যায় না।

স্বপ্ন বর্ণনায় মিথ্যাচারঃ

ঘুম ভাঙ্গার পর দেখা স্বপ্ন মানুষ যখন অন্যের কাছে বর্ণনা করে তখন সাধারণত মানুষ মিথ্যাচারের আশ্রয় নেয়। কারণ, স্বপ্ন বর্ণনার সময় জাগ্রত অবস্থার মনোভাব দেখা স্বপ্নের উপর প্রভাব ফেলে।  স্বপ্ন এতটা সাজানো গোছানো থাকে না যতটা সাজিয়ে গোছিয়ে মানুষ তা বর্ণনা করে।

স্বপ্নব্যাখ্যাঃ

আদিকাল থেকেই স্বপ্নব্যাখ্যার প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। আরটেমিডোরাস তার বিখ্যাত অনিরো ক্রিটিকন বইয়ে স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে প্রথম স্বপ্ন ব্যাখ্যার রীতি লিপিবদ্ধ করেন। স্বপ্নের উৎস, প্রক্রিয়া, তাৎপর্য ও ব্যাখ্যার পদ্ধতি সম্বন্ধে ফ্রয়েডের আবিষ্কার মনঃসমীক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশেও খাবনামা জাতীয় বইয়ের কাটতি কম নয়। স্বপ্নের ব্যাখ্যা কোন বইয়ে থাকতে পারে না। স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা কেবল জানতে পারে স্বপ্নদ্রষ্টা নিজে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অধিকাংশ স্বপ্ন দ্রষ্টা এটাই জানে না যে সে সঠিক ব্যাখ্যাটা জানে। নিজেদের স্বপ্নকে নিজেরা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলে অনেক তথ্য ও তত্ত্ব আবিষকৃত হয়। কিন্তু এজন্য প্রথমে স্বপ্ন স্মরণ রাখার অনুশীলন করতে হয়।

স্বপ্ন স্মরণ রাখার অনুশীলনঃ

রাতে ঘুমাবার আগে ২১ বার বলতে হবে  - আজ রাতে আমি যে সব স্বপ্ন দেখবো তার প্রত্যেকটি স্বপ্ন মনে রাখবো এবং ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথে তা লিখে রাখবো। এভাবে ২১ দিন চেষ্টা করলে সব স্বপ্ন মনে রাখা যায়। নিজেকে জানার জন্য স্বপ্নকে স্মরণ রাখার এবং স্বপ্ন বিশ্লেষণের গুরুত্ব অপরিসীম। যে জ্ঞান স্বপ্নদ্রষ্টার আছে কিন্তু যার অস্তিত্ব সম্পর্কে স্বপ্নদ্রষ্টা সচেতন নয় স্বপ্নে সেসব জ্ঞান প্রকাশিত হয়। কিন্তু স্বপ্নদ্রষ্টার সচেতন প্রচেষ্টা ব্যতিত তা সম্ভব নয়।

ইচ্ছা স্বপ্ন দেখাঃ

মানুষ ইচ্ছা স্বপ্নের সৃষ্টি করতে পারে। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে যাকে বা যে বিষয়ে স্বপ্ন দেখতে চায় সে বিষয়ে মনোনিবেশ করলে ইচ্ছা স্বপ্ন দেখা যায়।

স্বপ্নের তাৎপর্যঃ

যে যেমন মানুষ সে তেমন স্বপ্ন দেখে। স্বপ্নের তাৎপর্য নির্ভর করে স্বপ্নদ্রষ্টার চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির উপর। যে সব মানুষের জাগ্রত অবস্থায়ই কর্মকান্ডের কোন তাৎপর্য নেই তার স্বপ্নেরও কোন তাৎপর্য নেই। স্বপ্ন তাৎপর্যপূর্ণ হয় যখন জাগ্রত অবস্থায় মানুষ তাৎপর্যপূর্ণ কাজ করে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর রাজষির্ নাটকের কাহিনী স্বপ্নে পেয়েছেন, ইংরেজ কবি কোলরিজ তাঁর বিখ্যাত কোবলা খান কবিতাটি স্বপ্ন দেখে লিখেছেন, বিজ্ঞানী নিলস বোর পরমাণুর গঠন স্বপ্নে দেখেছেন, বিজ্ঞানী কেকুলে বেনজিনের গঠন-তত্ত্বটি স্বপ্নে দেখেন অর্থাৎ এক চিন্তা তাৎপর্যপূর্ণ স্বপ্ন সৃষ্টি করে।

স্বপ্ন প্রতীকঃ

আদি কাল থেকেই মানুষ স্বপ্ন প্রতীকের কথা ভেবে আসছে। লাঠি, সাপ, পিস্তল, গর্ত, ঘর, কাগজ, গহনা, ঘোড়ায় চড়া, চাবি, নদী, সমূদ্র ইত্যাদি নানা রকমের স্বপ্ন প্রতীকের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। ওড়ার স্বপ্ন, পড়ে যাবার স্বপ্ন, নিজেকে উলঙ্গ দেখার স্বপ্ন, পরীক্ষার স্বপ্ন, চোর ডাকাতের স্বপ্ন, পানিতে পড়ে যাবার স্বপ্ন, প্রিয়জনের মৃত্যুর স্বপ্ন ইত্যাদি স্বপ্নও প্রতিকী। স্বপ্ন প্রতীকের অভিধান আছে। প্রথম অভিধানটি প্রকাশিত হয় মিশরে। মুসলিম রাজাদের দরবারে স্বপ্নব্যাখ্যাদাতাগণ একসময় খুব সমাদৃত ছিলেন। বাইবেলের সুবিখ্যাত স্বপ্নগুলোর ব্যাখ্যাদাতা জোসেফের কথা আমাদের সবারই জানা। বাইবেলে অধিকাংশ শব্দই কুমন্ত্রণাদাতার সৃষ্টি এ রকম একটা আয়াত আছে।

স্বপ্ন ও লক্ষ্যঃ

স্বপ্ন ও লক্ষ্য এক নয়।  লক্ষ্য, স্বপ্নের মতো কল্পনা আশ্রিত নয়। লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট এবং স্পষ্ট। স্বপ্ন স্পষ্ট হতে পারে কিন্তু সুনির্দিষ্ট নয়। লক্ষ্য সংক্ষিপ্ত। স্বপ্ন বিস্তারিত।

চিন্তা ও স্বপ্নঃ

চিন্তা স্বপ্নকে প্রভাবিত করে কিন্তু চিন্তার তুলনায় স্বপ্নের বিচরণ ক্ষেত্র অনেক বেশি প্রশস্ত। স্বপ্ন যুক্তির গন্ডিতে আবদ্ধ থাকে না কিন্তু চিন্তা যুক্তির গন্ডিতে আবদ্ধ থাকে। পরিবেশ, রীতি-নীতি, ভাল-মন্দ, বিবেক ইত্যাদি চিন্তার স্বাধীন গতিকে বাধাগ্রস্থ করে। স্বপ্নের জগতে এসব বাধা নেই। তাই জাগ্রত অবস্থায় কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার চাইতে স্বপ্নে সিদ্ধান্ত নিতে পারলে সিদ্ধান্তটি নির্ভুল হবে।

দিবাস্বপ্নঃ

ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের কল্পনা ও আকাঙ্খাকে দিবাস্বপ্ন বলা হয়। দিবাস্বপ্ন বস্তুগত প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। বস্তুজীবনে সঠিক ব্যবহারে দিবাস্বপ্ন অতীতের পরিসমাপ্তি ঘটায়, বর্তমানকে সুগঠিত করে এবং ভবিষ্যৎ জীবনের নতুন পথের সন্ধান দেয়। দিবাস্বপ্ন ভবিষ্যতের ছবি দেখিয়ে ব্যক্তিকে শক্তি ও সাহস যোগাতে পারে। সঠিক ব্যবহার জানলে দিবাস্বপ্ন শিল্প, সাহিত্য, সঙ্গীত ও নব নব আবিষ্কারের দ্বার উন্মোচন করে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই দিবাস্বপ্নকে সৃষ্টিশীলতায় ব্যবহার করে না অথচ প্রায় সারাক্ষণই তাৎপর্যহীন দিবাস্বপ্ন দেখে। দিবাস্বপ্নকে দিবাস্বপ্ন বলা হয় কারণ, সাধারণ মানুষের কাছে দিবাস্বপ্নের বিষয়বস্তুও বাস্তবের মতো বাস্তব নয়। আধ্যাত্মিক সাধনায় দিবাস্বপ্ন সহায়ক। মুর্শিদ স্মরণ, নিজেকে জানা এবং আমি'র মধ্যে থাকতে দিবাস্বপ্ন বাধা দেয় না। দিবাস্বপ্ন সাধারণ মানুষকে বর্তমানে থাকতে দেয় না। এজন্যই সাধকেরা সিদ্ধি লাভকে জীবনের স্বপ্ন থেকে জাগরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
মানুষ সজাগ থাকলে স্বপ্ন দেখে না। একজন সিদ্ধ পুঁরুষ ঘুমন্ত অবস্থায়ও সজাগ থাকেন অথবা যিনি সব সময় সজাগ থাকেন তাঁকেই সিদ্ধ পুঁরুষ বলা হয়। তাই সিদ্ধ পুঁরুষদের স্বপ্ন দেখার কথা নয়।

ইসলামে স্বপ্নের ব্যাখ্যাঃ

সত্য স্বপ্ন নবুয়্যতের অংশ। রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ) বলেছেনঃ “সত্য স্বপ্ন নবুয়্যতের ৪৬ ভাগের এক ভাগ।” (আল-বুখারীঃ ৬৪৭২; মুসলিম ৪২০১)
ওহী নাযিলের পূর্বে রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ) স্বপ্ন দেখতেন যা দিবালোকের মত স্পষ্ট ছিল। (আল-বুখারী, ৩; মুসলিম, ২৩১)
স্বপ্ন দর্শনকারীর সততা ও আন্তরিকতার সাথে স্বপ্নের সত্যাসত্য সম্পর্কিত। যারা বেশী সত্যবাদী তাদের স্বপ্নও বেশী সত্য হয়। (মুসলিম, ৪২০০)
কিয়ামতের কাছাকাছি সময়ে খুব কম স্বপ্নই অসত্য হবে। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “এটা এজন্যই হবে যে সে সময়টা নবুয়্যতের সময় ও প্রভাব থেকে অনেক দূরবর্তী হবে। ফলে বিশ্বাসীদেরকে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে কিছুটা পুষিয়ে দেয়া হবে, যা তাদের কাছে সুসংবাদ বয়ে আনবে অথবা তাদেরকে তাদের ঈমানের ব্যাপারে ধৈর্য ধরতে ও দৃঢ় থাকতে সাহায্য করবে।” (আল-বুখারী, ৬৪৯৯; মুসলিম ৪২০০)
একই কথা বলা যেতে পারে সে সমস্ত অলৌকিক ঘটনাবলী সম্পর্কে যা সাহাবীদের সময়ের পরে ঘটেছিল। এগুলো তাদের সময়ে সংঘটিত হয়নি কারন তাদের দৃঢ় ঈমানের কারনে তা তাদের প্রয়োজন ছিলনা। কিন্তু তাদের পরে আসা লোকদের সে অলৌকিক ঘটনাবলীর দরকার ছিল তাদের দূর্বল ঈমানের কারনে।
স্বপ্ন তিন প্রকারেরঃ রহমানী (যেগুলো আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে হয়), নফসানী (মনস্তাত্বিক, এগুলো ব্যক্তির নিজের পক্ষ থেকে হয়) এবং শয়তানী (যেগুলো শয়তানের পক্ষ থেকে হয়)। রসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “স্বপ্ন তিন প্রকারেরঃ এক প্রকারের হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে, আরেক প্রকার যা মানুষকে ভারাক্রান্ত করে, আর তা হয় শয়তানের পক্ষ থেকে, আরেক প্রকারের স্বপ্ন সংঘটিত সে সমস্ত ব্যাপার থেকে যা ব্যক্তি জাগ্রত অবস্থায় চিন্তা করেছে যা ঘুমের ঘোরে সে দেখতে পায়।” (আল-বুখারী, ৬৪৯৯; মুসলিম, ৪২০০)
নবীদের স্বপ্ন হল ওয়াহী কারন কারন তাঁরা শয়তান থেকে সুরক্ষিত। এ ব্যাপারে উম্মতের ইজমা রয়েছে। এজন্যই ইব্রাহীম (আঃ) স্বপ্নে দেখেই তাঁর পুত্র ইসমাইলকে (আঃ) কুরবানী করতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
নবীদের ছাড়া অন্য লোকদের স্বপ্নকে সুস্পষ্ট ওয়াহীর (কুর’আন ও সুন্নাহ্‌) আলোকে যাচাই করে দেখতে হবে। যদি সেগুলো কুর’আন ও সুন্নাহ্‌ সমর্থিত হয় তাহলেতো ভাল; নাহলে সে স্বপ্নের ভিত্তিতে কোন কাজ করা যাবেনা। এটা একটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, কারন অনেক বিদ’আতপন্থী ও সূফীরা তাদের স্বপ্নের উপর নির্ভ্র করেই গোমরাহ হয়ে গিয়েছে।
কেউ যদি সত্য স্বপ্ন দেখার আশা করে তবে তার উচিৎ সত্য কথা বলার জন্য সদা সচেষ্ট থাকা, হালাল খাওয়া, শরীয়তের হুকুম আহকামগুলো মেনে চলা, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ) যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকা, সম্পূর্ণ পবিত্র অবস্থায় কিবলা মূখী হয়ে শয়ন করা এবং চক্ষু বুজে আসা পর্যন্ত আল্লাহর জিকরে লিপ্ত থাকা। যদি কেউ এমন করে তাহলে কদাচ তার স্বপ্ন অসত্য হতে পারে।
সবচেয়ে সত্য স্বপ্ন হচ্ছে যা সেহরীর সময়ে দেখা যায়, কারন এ সময়ে আল্লাহ্‌ তা‘আলা নেমে আসেন এবং তাঁর রহমত ও ক্ষমা আমাদের নিকটবর্তী থাকে। আরো ব্যাপার হচ্ছে এ সময়ে শয়তানরাও চুপ থাকে; অন্যদিকে সূর্যাস্তের পরে অন্ধকার নেমে আসলে শয়তানরা ও শয়তানী লোকেরা চারিদিকে ছড়িয়ে পরে।
[দ্রষ্টব্যঃ  ইবন আল-কায়্যিম, “মাদারিজ আস-সালিকীন” ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫০-৫২]
ইমাম ইবন হাজার আল-আসক্বালানী বলেছেনঃ স্বপ্ন সাধারণত দু’ধরণের হয়ে থাকে।
প্রথম প্রকার হচ্ছে সত্য স্বপ্ন। এগুলো হচ্ছে নবীদের ও তাঁদের অনুসারী নেককার লোকদের স্বপ্ন। অন্যলোকদের ক্ষেত্রেও এগুলো ঘটতে পারে, তবে এটা বিরল, যেমন মিশরের কাফির বাদশার স্বপ্ন যা তার জন্য ইঊসুফ (আঃ) ব্যাখ্যা করেছিলেন। সত্য স্বপ্নগুলো বাস্তব জীবনেও সত্য হয়ে দেখা দেয় যেমন স্বপ্নে দেখা হয়েছে।
দ্বীতিয় প্রকার হল মিশ্র ধরণের মিথ্যা স্বপ্ন, যা কোন ব্যাপারে সতর্ক করে। এ গুলো আবার দু’ধরণের।
এক প্রকার হচ্ছে শয়তানের খেলা যা দিয়ে সে ব্যক্তিকে ভারাক্রান্ত করে তোলে। যেমন সে দেখল যে তার মাথা কেটে ফেলা হয়েছে এবং সে সেই কাটা মাথার অনুসরণ করছে; অথবা সে এমন কোন সঙ্কটে পড়েছে যা থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য কোন সাহায্যকারী সে পাচ্ছেনা।
অন্য প্রকার হল যখন সে দেখে যে ফেরেশতারা তাকে কোন হারাম কাজ করতে বলছে; অথবা এমন সব বিষয় যা সাধারণত অর্থহীন।
যখন কেউ দেখে এমন কিছু যা বাস্তব জীবনে ঘটছে, অথবা তা ঘটার আশা করে এবং সে তা বাস্তবতার মতই স্বপ্নে দেখে। এমনও হয় যে সে দেখে যা সাধারণত তার জীবনে ঘটে অথবা যা তার চিন্তায় থাকে। এ স্বপ্নগুলো সাধারণত বর্তমান ও ভবিষ্যতের কথা বলে, কদাচ অতীত সম্পর্কে।
[ফাতহ আল-বারী, দ্বাদশ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৫২-৩৫৪]
আবূসাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) বলেছেনঃ নবী (সঃ) বলেছেন, “তোমাদের কেউ যদি এমন কোন স্বপ্ন দেখে যা সে পসন্দ করে, তাহলে তা আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে। সুতরাং তার উচিৎ আল্লাহ্‌র প্রসংশা আদায় করা ও অন্যদেরকে স্বপ্ন সম্পর্কে বলা। কিন্তু সে যদি এমন স্বপ্ন দেখে যা সে অপসন্দ করে তাহলে তা শয়তানের পক্ষ থেকে। সুতরাং তার উচিৎ এর ক্ষতি থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া এবং কাউকে এ স্বপ্ন সম্পর্কে না বলা। এরূপ করলে তার কোন ক্ষতি হবেনা।” [আল-বুখারী, ৬৫৮৪; মুসলিম ৫৮৬২]
আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) বলেছেনঃ রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ) বলেছেন, “ভাল স্বপ্ন হয়ে থাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং খারাপ স্বপ্ন হয় শয়তানের পক্ষ থেকে। কেউ যদি এমন কিছু দেখে যা সে অপসন্দ করে তাহলে সে যেন তার বাম দিকে তিনবার থুতু ফেলে এবং শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়। তাহলে এটা তার কোন ক্ষতি করতে পারবেনা। [আল-বুখারী ৬৫৯৪; মুসলিম ৫৮৬২] থুথু ফেলা বলতে এখানে এমন থুতু ফেলা বুঝানো হয়েছে যাতে মুখ থেকে শুষ্ক বাস্পাকারে বের হওয়া থুতু বুঝানো হয়েছে যাতে মুখের লালা মিশ্রিত থাকেনা।
জাবের (রাঃ) বর্ণনা করেছেনঃ রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ) বলেছেন, “কেউ যদি এমন কিছু দেখে যা সে অপসন্দ করে তাহলে সে যেন তার বাম দিকে তিনবার থুতু ফেলে এবং শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে তিনবার আশ্রয় চায়; যেন পাশ ফিরে শোয়। [মুসলিম ৫৮৬৪]
ইবন হাজার (রঃ) বলেছেনঃ ভাল স্বপ্ন সম্পর্কে সংক্ষেপে যা বলা হয়েছে সে ব্যাপারে আমরা তিনটি বিষয় নির্দেশ করতে পারিঃ
1.    ভাল স্বপ্নের জন্য ব্যক্তির আল্লাহর প্রসংশা আদায় করা উচিৎ।
2.    স্বপ্ন দ্রষ্টার এ জন্য খুশী হওয়া উচিৎ।
3.    সে যাদেরকে ভালবাসে তাদের কাছে তার স্বপ্ন বর্ণনা করা উচিৎ; তাদের কাছে নয় যাদেরকে সে অপসন্দ করে।
ইবন হাজার (রঃ) আরো বলেছেনঃ খারাপ স্বপ্ন সম্পর্কে সংক্ষেপে যা বলা হয়েছে সে ব্যাপারে আমরা চারটি বিষয় নির্দেশ করতে পারিঃ
1.    স্বপ্নদ্রষ্টার উচিৎ এর খারাবী থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া,
2.    শয়তানের ক্ষতি থেকে আল্লার আশ্রয় চাওয়া
3.    ঘুম থেকে জাগরিত হওয়ার পর নিজের বাম দিকে তিনবার থুতু ফেলা; এবং
4.    কারো কাছেই তার এটা বর্ণনা না করা।
আল-বুখারীর বাব আল-ক্বায়দ ফী আল-মানামে পঞ্চম একটা বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে আবূ হুরায়রা  (রাঃ) থেকে; আর তাহল নামাজ পড়া। বর্ণনাটা নিম্নরূপঃ যদি কেউ কোন অপসন্দনীয় কিছু স্বপনে দেখে সে যেন তা কাউকে না বলে; বরং তার উচিৎ শোয়া থেকে উঠে নামাজ পড়া। ইমাম মুসলিমও তাঁর সহীহ্‌তে এটাকে মাউসূল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মুসলিম ষষ্ঠ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন; তা হল পার্শ্ব পরিবর্তন করে শোয়া।
উপসংহারে বলা যায় স্বপ্ন দেখলে উপরোক্ত ছয়টি বিষয়ে আমল করা উচিৎ।
[দেখুনঃ ফাতহ আল-বারী, দ্বাদশ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৭০]
তিরমিজী্তে আবূ রাজ়ীন থেকে বর্ণনা করা এক হাদীস মতে, স্বপ্ন দ্রষ্টার স্বপ্নের কথা কাউকেই বলা উচিত নয় শুধুমাত্র এমন অন্তরঙ্গ বন্ধুকে ছাড়া যে তাকে অত্যন্ত ভালবাসে এবং যে প্রজ্ঞাবানও। অন্য বর্ণনা মতে স্বপ্নের কথা কাউকেই বলা উচিৎ নয় শুধুমাত্র জ্ঞানী ও প্রিয়জন ছাড়া। অন্য আরেকটি বর্ণনা মতে স্বপ্নের কথা শুধু কোন আলেমকে বা এমন ব্যক্তি যে আন্তরিক সদুপদেশ দিতে পারে তাকে ছাড়া আর কাউকে বলা যাবেনা। কাজী আবূ বকর ইবন আল-আরাবী (রঃ) বলেছেনঃ আলেমের ব্যাপারটা হচ্ছে তিনি তাঁর জ্ঞানের আলোকে সাধ্যমত ভাল ব্যাখ্যা দিতে পারবেন; আর আন্তরিক উপদেশদানকারী হয়তো তাকে এমন কিছু শিখিয়ে দেবেন যা তার জন্য উপকারী প্রমাণিত হবে অথবা কাজটা করতে তাকে সাহায্য করবেন। যিনি প্রজ্ঞাবন তিনি জানবেন কীভাবে স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে হয় এবং স্বপ্নদ্রষ্টাকে শুধু তাই বলবেন যা তার জন্য সাহায্যকারী হবে; নতুবা তিনি চুপ থাকবেন। তার প্রিয় ব্যক্তির অবস্থা হচ্ছে তিনি যদি ভাল কিছু জানেন তাহলে বলবেন; আর যদি না জানেন বা সন্দেহে থাকেন তাহলে তিনি চুপ থাকবেন। [দ্রষ্টব্যঃ ফাতহুল বারী, দ্বাদশ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৬৯]
ইমাম বাগাওয়ী (বাগাভী) তাঁর শারহ্‌ আস—সুন্নাহতে (১২/২২২) উল্লেখ করেছেনঃ জেনে রেখ যে স্বপ্নের তাবীর বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। স্বপ্ন ব্যাখ্যা করা যায় কুর’আন অথবা সুন্নাহ্‌র আলোকে, অথবা জনগণের মধ্যে প্রচলিত বাগবিধির আলোকে অথবা বিভিন্ন নাম ও রূপকের মাধ্যমে অথবা বিপরীত কোন বিষয়ের আলোকে।
তিনি নিম্নরূপ উদাহরণ দিয়েছেনঃ
কুর’আনের আলোকে ব্যাখ্যাঃ রশিকে কৃত ওয়াদা বা চুক্তি হিসেবে গ্রহন করা যায়, কারণ আল্লাহ্‌ বলেছেন, “তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্ত করে ধারণ কর।” [আলে ইমরান, ৩/১০৩]
সুন্নাহর আলোকে ব্যাখ্যাঃ দাড় কাক কোন পাপাচারী ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব করা, কারন রসূলুল্লাহ্‌ (সঃ) তাই বলেছেন।
বাগধারা/বাগবিধির আলোকে ব্যাখ্যাঃ কোন গর্ত খনন করা মানে কোন চক্রান্ত, কারন লোকেরা বলে থাকে, “যে কোন গর্ত খনন করে সে তাতে পতিত হয়।”
নামের আলোকে ব্যাখ্যাঃ কেউ যদি রাশেদ নামে কাউকে দেখে তার মানে হবে বুদ্ধিমত্তা।.
বিপরীত বিষয়ের আলোকে ব্যাখ্যাঃ ভয় দেখা মানে নিরাপত্তা, কারণ আল্লাহ্‌ বলেছেন (তর্জমা), “তিনি নিশ্চয়ই তাদের ভীতির পরে এর পরিবর্তে দান করবেন নিরাপত্তা।” [আন-নূর, ২৪/৫৫]
অন্যদিকে ইবন সীরীন (সঃ) এর স্বপ্নের তাবীর নামে যে বইটি বাজারে প্রচলিত অনেক গবেষকের মতে এটা আসলে এই মহান আলেম লিখেছেন বলে কোনভাবেই প্রমান করা যায় না।

প্রযুক্তির যে সকল চমক আপনার জন্য অপেক্ষা করছে

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ।
কেমন আছেন সবাই? আশা করি ভাল আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় ভাল আছি। এই টিউনে প্রযুক্তির কিছু কথা লেখার চেষ্টা করেছি আশা করছি আপনাদের ভাল লাগবে। আসলে আমি প্রযুক্তিকে অনেক বেশি ভালবাসি আর টেকটিউন্স কে ভালবাসি বলেই টেকটিউন্সে টিউন করা । চলুন তাহলে শুরু করা যাক আজকের এই টিউন ।

উইনডোজ 10

নিশ্চই ব্যাপারটি সবাই জানেন যে উইনডোজ 10 খুব শিগ্রই উন্মুক্ত হচ্ছে ।
2015 তে ব্যাবহার করতে পারবেন উইন্ডোজ 10 । যাদের আর অপেক্ষা করার মত সময় নেই তারা উইন্ডোজ 10 এর প্রিভিউ ভার্সন ব্যাবহার করতে পারেন। এবার দেখব উইন্ডোজ 10 এ কি কি চমক রয়েছে। উইন্ডোজ 10 এর সবছেয়ে বড় চমক হচ্ছে এটি সকল ডিভাইস এ সাপোর্ট করবে। অর্থাৎ মোবাইল, টেবলেট, কম্পিউটার ও অন্যান্য সকল ডিভাইস এর জন্য একটি ভার্সন।
উইন্ডোজ 8 অনেক সমালোচিত হয়েছে । উইন্ডোজ 8 এ সবছেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে START Menu নিয়ে। কিন্তু উইন্ডোজ 10 এ  বহুল সমালচিত স্টার্ট মেনু ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
প্রিভিউ ভার্সন ডাউনলোড করে ব্যাবহার করতে পারেন।
প্রিভিউ ভার্শন এর ডাউনলোড লিংক
Download
Product key: NKJFK-GPHP7-G8C3J-P6JXR-HQRJR
মাইক্রোসফট কতৃক প্রকাশিত প্রিভিউ টি দেখে নিতে পারেন এখানে ।
উইন্ডোজ 10 অনেক দ্রুত গতি সম্পন্ন।
এক কথায় উইন্ডোজ 10 হচ্ছে অপারেটিং সিস্টেম এর এক নতুন চমক।

ডিএনএ ভিত্তিক বৈদ্যুতিক সার্কিট

২০ শতকে সবছেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে কম্পিউটার, যোগাযোগ ও ইন্টারনেটের। বিশেষ করে কম্পিউটারের আক্রিতি দিন দিন ছোট করা হচ্ছে। ১৯৭০ সালের দিকে একটি কম্পিউটার ছিল ১টি টেনিচ কোর্ট এর আক্রিতির। বিজ্ঞানীরা মাস্টার কী মাধ্যমে উপাদান পৃথক করে এর আকার ছোট করার মহান পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তারা ট্রানজিস্টর মধ্যে দূরত্ব এই ব্যাপারে কম সফল হয়েছে। ট্রানজিস্টর মধ্যে এই শূণ্যস্থান আরো অনেক চ্যালেঞ্জিং। ইলেকট্রনিক উপাদান ফেবরিকেশনের জন্য বিল্ডিং ব্লক হিসাবে অণু ব্যবহার করে, যা আণবিক ইলেকট্রনিক্স, ক্ষুদ্র সংস্করণের চ্যালেঞ্জ চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে দেখা হয়. আসলে অণু ব্যবহার করে জটিল বৈদ্যুতিক সার্কিট তৈরী করতে সক্ষম হয়েছে। প্রাথমিক ডিজাইন করা হয়েছিল যা শুধুমাত্র পরিচিত অণু ঘুরে যোগাযোগ করতে পারে যা কম্পিউটারের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে, যা জটিল ও ক্ষুদ্র সার্কিট।
এ পর্যন্ত দীর্ঘ ডিএনএ অণু মাধ্যমে নির্ভরযোগ্যভাবে এবং পরিমাণজ্ঞাপক বৈদ্যুতিক বর্তমান প্রবাহ প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে । জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক Danny Porath এর নেত্রীত্বে একটি আন্তর্জাতিক গ্রুপ, চারটি ডিএনএ strands দিয়ে গঠিত দীর্ঘ অণুর মাধ্যমে বিদ্যুত প্রবাহ পুনরায় উৎপাদন ও পরিমাণগত পরিমাপ রিপোর্ট. প্রোগ্রামযোগ্য সার্কিট উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছেন।যা নেচার জার্নালে ন্যানোটেকনোলোজিতে “Long-range charge transport in single G-quadruplex DNA molecules” শিরোনাম প্রকাশিত হয়।

পূর্বের তুলনায় ৫গুন গতি সম্পন্ন ওয়াইফাই

ক্যাপে, মার্কেট, পাবলিক প্লেস এ Wi-Fi ব্যাবহার করে থাকি। Wi-Fi এর স্পীড অনেক হতাশা জনক। সম্প্রতি স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স এর যুগান্তকারী আবিষ্কার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তারা 4.60 গিগাবিট পার সেকেন্ড বা 575MBps আর পুর্বের speed ছিল (866Mbps, বা প্রতি সেকেন্ডে 108MB) আগের সর্বোচ্চ গতির চেয়ে 5.3 গুণ দ্রুত। স্যামসাং নেটওয়ার্ক ইউ কে এর জেনারেল ম্যানেজার পল টেম্পলটন বলেন "স্যামসাং এর এই যুগান্তকারী আবিষ্কার এর পরবর্তী প্রজন্মের ডিভাইসের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে"। ডিভাইস টি ২০১৫ সালে মার্কেটে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
আবিষ্কৃত গতি সম্পর্কে একটি ধারণা দেওয়া যেতে পারে: একটি 1 গিগাবাইট সিনেমা YouTube থেকে ৩ সেকেন্ড এর ও কম সময়ে ডাউনলোড করা যাবে।

২০২০ সালে আমেরিকার আকাশে টহল দিবে 30,000 ড্রোন

2012 আমেরিকায় আইন পাশ করে যুক্তরাষ্ট্রীয়, রাজ্য, স্থানীয় পুলিশ এবং মার্কিন আকাশসীমায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ড্রোন ব্যাবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। 2015 সালে বাণিজ্যিক কাজে ড্রোন অনুমোদন দেওয়া হবে।
আমরা সকলে জানি যে ড্রোন সবছেয়ে বেশি ব্যাবহার হয়েছে আফগানিস্থানে সামরিক অভিযানে । এছাড়া মার্কিন আকাশসীমায় নজরদারি, দূর্যোগে ত্রাণ ও সহায়তার এবং জননিরাপত্তা দিতে ড্রোন ব্যাবহার করা হয়।
ড্রোন এর মাধ্যমে ইনফ্রারেড, তাপ সেন্সর এবং রাডার এর সাহায্য সমগ্র শহর স্ক্যান ও উন্নত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। 60,000 ফুট উপর থেকে কাগজে লিপিবদ্ধ যে কোন কিছু পড়তে সক্ষম এমন ক্যামেরা ব্যাবহার করা হয়েছে। এছাড়া কোন ওয়ারেন্ট বা আইনি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকদের গুপ্তচর ব্যবহার করা হচ্ছে।
2012 সালে, মার্কিন আকাশসীমা মধ্যে 7,000 অপারেটিং ড্রোন ইতিমধ্যে ছিল। 2020 সালে এই সংখা বেড়ে দাঁড়াবে 30,000 যা বর্তমান সংখার ছেয়ে চারগুনের ও বেশি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশের উপর তাদের নজরদারি বিস্তৃত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ব্রিটেনে ইতিমধ্যে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন CCTV পরিমান 30 গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

টিউনটি কেমন হল কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।  কোন ভুল ত্রুটি থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
কষ্টকরে টিউনটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ।

“সাপের মাথার মনি” – জ্যোতিষীদের প্রতারনা এবং এর পিছনের গুপ্ত বৈজ্ঞানিক কৌশল

“সাপের মাথার মনি” – জ্যোতিষীদের প্রতারনা এবং এর পিছনের গুপ্ত বৈজ্ঞানিক কৌশল
“জ্যোতিষ রাজ ‘অমুক’ এর কাছে আছে সাত রাজার ধন সাপের মাথার মনি, যা পিতলের আংটি তে ব্যাবহার করে আঙ্গুলে পরলে বিপদ দূর হয় / ব্যবসায় সাফল্য আসে / দাম্পত্য জীবন সুখের হয় এবং সকল সমস্যার সমাধান হয়” – এরকম অনেক বিজ্ঞাপন অনেক কথা আমরা শুনে থাকি।
বর্তমানে শিক্ষার হার বাড়ার সাথে সাথে এ বিষয়ে সচেতনতাও বেড়েছে। আমরা ধরেই নিতে পারি অজ-পাড়াগা থেকে আসা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত নন এমন মানুষেরাই এ ধরনের কথায় কান দেন।
কিন্তু বসুন্ধরা সিটি’র মত অত্যাধুনিক শপিং কমপ্লেক্সের লিফটে যখন দেখা যায় এমন বিজ্ঞাপন যার অবস্থান খোদ সেখানেই তখন আরেকবার চিন্তা করতে হয় শুধু অশিক্ষিত-অসচেতন মানুষেরাই কি এই প্রতারনার ফাদে পা দিচ্ছে নাকি সেই ফাদে আটকা পড়ছে “শিক্ষিত সচেতন” মানুষেরাও।
এমন অভিজাত স্থানে অবস্থান নেয়া জ্যোতিষদের কাছে যাচ্ছে তারাই, যাদের অঢেল সম্পত্তি আছে এবং দেখা যায় এক-একটি আংটি বা পাথরের জন্য খদ্দের রা দিয়ে আসছে সেখানে লক্ষ-লক্ষ টাকা। এদের মধ্যে এক দল আছে যারা অশিক্ষিত ধনী তারা অনেকটা সেই অজ-পাড়া গাঁ এর লোকদের মতই ফাদে পা দিচ্ছে, আরেকদল সংশয় প্রকাশকারী। অনেক শিক্ষিত ব্যাক্তি ও অনেক সময় “দেখি ব্যাপার টা কি” এই মনোভাবে সেখানে যাচ্ছে এবং তাদের একটা কুট-কৌশলে ধরা পরে শিক্ষিতি হবার পরও ভেবে নিচ্ছে তাদের এই “জ্যোতিষ বিদ্যা” আসলেই অনেক বড় কিছু।
একাজে এই “জ্যোতিষ রাজ” রা নিচ্ছে কিছু কৌশলের আশ্রয় এবং তাতে বোকা বনে গিয়ে অনেকেই লাখ-লাখ টাকা খুইয়ে মানষিক প্রশান্তি নিয়ে ফিরে আসছেন। এটা শুধু অভিজাত না সকল জ্যোতিষী ই এইরকম কিছু কৌশলের আশ্রয় নেয়।
তাদের এই কৌশলের অন্যতম একটা হল “সাপের মাথার মনি”। অনেকে এই নামেই ঢালেন অর্থ-বিত্ত। তারা যত শিক্ষিতই হোক মানষিক অবস্থা অশিক্ষিতের থেকে খুব একটা উন্নত নয়। আর অনেকে ব্যাপারটা পরীক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়েন কৌশলের ফাদে।
কৌশল টা কী?যদি কখনো আপনি তাদের সত্যতার প্রমান দেখতে চান তার দেখাবে। তার আপনার সামনে একটি জীবন্ত সাপ নিয়ে আসবে। আপনি নিজ হাতে কাটবেন সাপটির মাথা। সাথে সাথে মাথার ভেতর থেকে বেড়িয়ে আসবে লাল/নীল/কাল একটি চকচকে পাথর বা মনি।
আসলে এরকম একটা ঘটনা চোখের সামনে ঘটার পর আপনি যত শিক্ষিতই হোন না কেন এর পেছনের বিজ্ঞান ও কৌশল টা যদি জানা না থাকে তবে “সাপের মাথার মনি” র অস্তিত্ব আর বিশেষ ক্ষমতার ব্যাপারটা আসলে অস্বীকার করাটা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।
এর পেছনের কৌশল জানার জন্য আগে জেনে নিন এই  “সাপের মাথার মনি” জিনিশ টা কী?
মুলত সাপের মাথায় কোন পাথর/মনি প্রাকৃতিক ভাবে থাকে না বা তৈরী হয় না। সাপের বিষ একটি বিষ গ্রন্থিতে তৈরী হয় এবং গ্রন্থি থেকে বিষ দতে প্রবাহিত হয়। কখনো কখনো বিষ দাতের মধ্য দিয়ে বেড়িয়ে আসতে পারে না। তখন এই বিষ জমা হয়ে কঠিন আকার ধারন করে। এটাকেই বলা হয় “সাপের মাথার মনি”। এই ঘটনাটি প্রকৃতিতে খুবই দূর্লভ। তবে এই জন্য এটি কখনোই কোন ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী নয় এমনকি আপনার ভাগ্য নির্ধারনের কোন ক্ষমতাই এর নেই। আর এটি আংটিতে ব্যাবহার করার মত কোন কঠিন পাথরের মত ও হয় না। তরল বিষ কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত হয়ে একটা irregular অবয়ব তৈরী করে মাত্র। অথচ সর্প-মনি বিশারদ রা আপনাকে সাপের মাথা থেকে এনে দেবে সুন্দর আকৃতির একটি রঙ্গিন পাথর।
এখন দেখুন কিভাবে তারা সাপের মাথা থেকে আপনার সামনে নিয়ে আসে একটি সুদৃশ পাথর বা মনি।
সাপ এক প্রকার সরীসৃপ। এর দেহে, দেহ থেকে সম্পূর্ন আলাদা তুলনামুলক ভাবে পুরু ও ফ্লেক্সিবল একটি খোলস থাকে। এই খোলস সাপের দেহকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের যখন সাপের দেহের বৃদ্ধি ঘটে তখন সাপ তার খোলস পরিবর্তন করে। বৃদ্ধি শেষে তার দেহে এমন আরেকটি পুরু ও ফ্লেক্সিবল খোলস তৈরী হয়ে যায়। আমরা সাপের বাইরে এই খোলস টিকেই দেখি। যাদের গ্রামে ভ্রমনের অভ্যাস আছে তারা হয়ত এরকম সাপের খোলস পরে থাকতে দেখে থাকতে পারেন। এই খোলস টি ভেতরের সাপের দেহের সাথে চামড়ার মত লাগানো থাকে না। অনেকটা চিংড়ি ও কাকড়ার খোলসের মত ফাপা অবস্থায় এই খোলসের ভেতর সাপের মূল দেহ থাকে। আপনি চাইলে সাপের এই খোলসের এক প্রান্ত একটু কেটে টান দিলে ভেতরের পুরো সাপটি কে খোলস থেকে বের করে আনতে পারবেন। সাপের এই বৈশিষ্ট টিই ব্যবহার করে সাপের মাথার মনি দেখান হয়ে থাকে।
এই সর্প-মনি বিশারদ রা প্রথমে একটি সাপের ব্যবস্থা করে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিষহীন সাপ এই কাজে ব্যবহার করে। তারপর তারা সাপের লেজের দিকে অল্প একটু কেটে সেখানে একটি রঙ্গিন পাথর প্রবেশ করায়। তাহলে পাথর টি থাকে সাপের পাতলা চামড়ার বাইরে এবং শক্ত খোলসের নিচে। তারপর এটিকে রাবারের টিউবের মত চেপে চেপে লেজের দিক থেকে পাথর টাকে সাপের মাথায় নিয়ে আসা হয়। এই সম্পুর্ন কাজটি ঘটে আপনার অগোচরে। এর পর তারা পূর্বে প্রস্তুতকৃত সাপটি কে নিয়ে আসে আপনার সামনে। আপনার লক্ষ্য থাকে সাপের মাথায়, লেজে নয়। তারপর আপনি যখন সাপটির মাথাটা কাটেন তখন বেরিয়ে আসে সেই আগে থেকে প্রস্তুত পাথর টি। যেটিকে সাপের মাথার মনি বলে চালিয়ে দেয়া হয়, এবং হাতিয়ে নেয়া হয় মোটা অংকের টাকা।
এই গুপ্ত বৈজ্ঞানিক কৌশল টা যদি আপনার জানা না থাকে তাহলে আপনার বিশ্বাস করে নেয়া টা অস্বাভাবিক না যে সাপের মাথায় মনি থাকে, সেটা খুব দামী ও ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী।
এমন বিভিন্ন কৌশল এর সাহায্যেই জ্যোতিষ রা ধোকা দিয়ে যাচ্ছে মানুষদের।
সবাইকে ধন্যবাদ।

চাঁদের মানুষ বা এলিয়েনের হাঁটার ছবি..........

চাঁদের মানুষ বা এলিয়েনের হাঁটার ছবি..........

কয়েকদিন আগে চাঁদে মানুষের হাঁটা নিয়ে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে চলতে থাকে ব্যাপক হইচই।
গুগল আর্থ ও নাসার লুনারের ছবিতে দেখা গিয়েছিল, চাঁদের মানুষ বা এলিয়েনের হাঁটার ছবি।
চাঁদের মানুষ চাঁদের মানুষ বা এলিয়েনের হাঁটার ছবি (ভিডিও সহ)
একই ধরনের ছবি আবার দেখা মিলল গুগল আর্থে। ফের দেখা গেল একজন মানুষ অথবা মানব আকৃতির এলিয়েন চাঁদে হাঁটছে। একইসঙ্গে দেখা যাচ্ছে তার ছায়া। এবারের ছায়া আগের চেয়ে বেশি স্পষ্ট।
আগের ছবি দেখে অনেকেই তা ভুয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। না হয় বলেছিলেন, এটা অন্য কিছুর ছায়া হতে পারে। তবে এবারের ছবি একটু দ্বন্দ্বে ফেলেছে সবাইকে।
নাসা এখনও এই ছবি সম্পর্কে কিছু জানায়নি।
অস্ট্রেলিয়ার চ্যানেল নাইনে প্রচারিত গুগলের মুন সিরিজের নাসার পাঠানো চাঁদের ছবি দিয়ে ওই ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। এক উৎসাহী ব্যক্তি ওই ভিডিও তন্ন তন্ন করে খুঁজে এ ছবি বের করেছেন।

“মুক্তনেট” : আগামী প্রজন্মের ইন্টারনেট – নকশা!!!

“মুক্তনেট” : আগামী প্রজন্মের ইন্টারনেট – নকশা!!!
আগামী প্রজন্মের ইন্টারনেট হল "মুক্তনেট" যেখানে সবাই স্বাধীন ও সবার প্রাইভেসি(গোপনতা) রক্ষা করা হয় এবং যেখানে কেউ কাউকে নিয়ন্ত্রণ করে না।সারাংশ এখানে

মুক্ত নেটের দরকার কেন:

কারণ বর্তমান ইন্টারনেট আর নিরাপদ নেই। ইন্টারনেট(যাকে আমরা সবাই ইন্টারনেট, রেগুলার ইন্টারনেট, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বা ক্লিয়ার-নেট বলি থাকি)-এর কিছু সমস্যা আমরা সবাই অনুভব করি। আমি শুধু একটা সত্য জানাচ্ছি, গ্রহণ বা বর্জন করা নিজ নিজ ব্যাপার।
(১) মানবতা-বিরোধী ইন্টারনেট আইন: বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকার ভিন্ন ভিন্ন নীতিমালা(যেমন-সোপা, অ্যাকটা, পাইপা, চিসপা) কার্যকর করেছে। এসব নীতিমালা অনুযায়ী, সরকার ও সরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানসমূহ কোনো সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই আপনার ডিজিটাল তথ্যের উপর নজরদারি করতে পারবে যা একদম অনুচিত। তারা বলে, এসব আমাদের নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু পরিসংখ্যানথেকে জানা যায় যে মৃত্যুর কারণের শীর্ষে আছে হৃদরোগ, ২য় তে আছে ক্যান্সার। জঙ্গিবাদে তুলনামূলক ভাবে কমই মারা যায়। হ্যাঁ, আমাদের জঙ্গিবাদ দমন করতে হবে ঠিকই তাই বলে কি এভাবে ? এগুলো খুব কমই সাহায্য করে। নিরাপত্তার জন্য যে অস্ত্র তৈরি করা হয়, সেগুলো আসলে কাদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে বিবেক আমাদের বলে দেয়। একটি মিসাইল তৈরিতে যে মূল্য, তাতে একটা স্কুলের সব শিশু পাঁচ বছরের প্রতিদিনের খাবার পেত।
(২) নজরদারি: নীতিমালা পাস হোক আর নাই হোক, আমরা সবাই জানি আমাদের উপর নজরদারি করা হচ্ছে। আমাদের প্রতিটি ইমেইল, প্রতিটি মেসেজ, প্রতিটি ফোন কল, প্রতিটি তথ্য - সব তারা নজরদারি করছে।
(৩) গোপনীয়তা(প্রাইভেসি): ক্লিয়ার-নেটে আমরা যে সকল সেবা ব্যবহার করে থাকি(যেমন - ফেইসবুক, গুগল, স্কাইপ, ইউটিউব ইত্যাদি) আমাদের গোপনীয়তা রক্ষা করে না।
(৪) নিরাপত্তা: ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের নিরাপত্তা খুবই দুর্বল। কারণ ইন্টারনেট ডেভেলপাররা সেসব কাজের জন্য ইন্টারনেট তৈরি করেন নি, যেসব কাজে এখন আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করছি। তাই পরবর্তীতে আমাদের আলাদা করে এসএসএল, টিএসএল তৈরি করে নিতে হয়েছে। আমি অবশ্যই ক্লিয়ার-নেট ডেভেলপারদের সম্মান করছি। কিন্তু রেগুলার ইন্টারনেট আগামী প্রজন্মের জন্য উপযোগী না।
(৫) নেট নিউট্রালিটি: ইন্টারনেটে নেট নিউট্রালিটি লঙ্ঘন করা হয়। এ ব্যাপারটি অনেক বড়, এই আর্টিকেলে বোঝানো সম্ভব না। নিজে DuckDuckGo বা Startpage তে সার্চ করে দেখতে পারেন। নেট নিউট্রালিটি না থাকার কারণেই ইজিপ্ট ও সিরিয়া সরকার সেকেন্ডেই ইন্টারনেট অ্যাকসেস বন্ধ করে দিতে পেরেছিল।
(৬) কেন্দীভূত: ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব কেন্দ্রীভূত। আমাদের সব তথ্য এক জায়গায় অর্থাৎ, সার্ভারে জমা হচ্ছে। কিন্তু এটা আশঙ্কাজনক। কারণ, একদিকে আমরা যেমন আমাদের তথ্যের নিয়ন্ত্রণ আরেকজনের হাতে তুলে দিচ্ছি, অন্যদিকে এক জায়গায় তথ্য জমা থাকলে আক্রমণকারীর জন্য তথ্য চুরি করা সহজ হয়ে যায়। আবার, ডস বা ডিডস করে সার্ভার বন্ধ করে দেওয়া যায়(যেমনটি হয়েছিল ইয়াহু, ইবে ও অ্যামাজনের সাথে)। এতে সবাই যেমন সেবা থেকে বঞ্চিত হয়, তেমনি তথ্যগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সারাংশ:

অতএব, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বা ক্লিয়ার-নেট যেমন অরক্ষিত তেমনি অ-নির্ভরযোগ্য। তাহলে আমরা কি করতে পারি ? ১। কিছুই না, ২। একটি নতুন ইন্টারনেট তৈরি করতে পারি। যারা আমার মত ব্যাপারটি অনুধাবন করতে পেরেছেন, তারা ২য় পথ বেছে নিবেন। ইন্টারনেট আসলে কি ? পৃথিবীর সকল কম্পিউটারকে যুক্ত করা। আমরাও তাই করবো কিন্তু ইন্টারনেটের ক্ষমতা কিছু সংখ্যক লোভী মানুষের হাতে না দিয়ে, ক্ষমতা থাকবে তাদের হাতে যারা ইন্টারনেট চালাবে। অর্থাৎ, আপনাদের হাতে। তাই আমাদের ৫ টি নৈতিক নীতিমালা থাকবে। (০) স্বাধীনতা: নেটওয়ার্কে যারা থাকবে তারা সবাই স্বাধীনভাবে যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে। যে কেউ এই ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হতে পারবে কারণ সবার সবার সাথে মিশার অধিকার আছে। এর ফলে ক্ষমতা কিছু লোভী মানুষের হাতে না থেকে জনগণের হাতে থাকবে। (১) প্রাইভেসি(গোপনীয়তা): এখানে আপনার গোপনীয়তা নিশ্চিত হবে। এতে করে আপনি সিদ্ধান্ত নিবেন যে আপনি কার কার সাথে কি কি কিভাবে শেয়ার করবেন। এতে করে আপনার মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত হয়। (২) মুক্ত নেটওয়ার্ক: নেটওয়ার্কটি হবে ডি-সেন্টালাইজড অর্থাৎ, কেন্দ্রীভূত নয়। তাই এখানে কেউ কাউকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। এমনকি যারা নেটওয়ার্ক ডেভেলপ করবে তারাও না। তাই তখন আর কোনো কোম্পানির কাছে গিয়ে কানেকশন চাইতে হবে না। এতে করে নেটওয়ার্ক বন্ধ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। (৩) নেট নিউট্রালিটি: এই নেটওয়ার্কে সবাই সমানভাবে তথ্য অ্যাকসেস করতে পারবে। তাই জ্ঞান ও সম্পদের অভাব হবে না। এবং (৪) নিরাপত্তা: এটি আমাদের পরিকল্পনার অন্যতম অংশ। এজন্য ডেভেলপারদেরকে ভালভাবে এনক্রিপশন বাস্তবায়নের জন্য আহ্বান করছি।

নেটওয়ার্কের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:

(১) এই ইন্টারনেট মানুষের স্বাধীনতা ও প্রাইভেসি(গোপনীয়তা) রক্ষা করে।
(২) ডি-সেন্টালাইজড ডিস্টিবিউটেড নিউট্রিলাইজড নেটওয়ার্ক, কেউ কাউকে নিয়ন্ত্রণ করবে না।
(৩) সোর্স কোড উন্মুক্ত, নেটওয়ার্ক টপোলজি: মেস নেটওয়ার্ক, ওয়্যারলেস মেস নেটওয়ার্ক।
(৪) এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন যা ম্যান-ইন-দ্যা-মিডেল এট্যাককে অকার্যকর করবে।
(৫) এই ইন্টারনেট কম্পিউটার, ট্যাবলেট, মোবাইল ফোন ইত্যাদি ডিভাইস দ্বারা ওয়্যারলেস বা ইথারনেট ক্যাবল দ্বারা অ্যাকসেস করা যাবে।
(৫) প্রতিটি ডিভাইসের একটি করে অদ্বিতীয় অ্যাড্রেস থাকবে, এক্ষেত্রে আইপি ভি৬ ব্যবহার করা যেতে পারে।

নেটওয়ার্কটি কিভাবে কাজ করবে:

মনে করুন, অনেকগুলো মানুষ এক সাথে দাড়িয়ে আছে। কেউ কোনো নড়াচড়া করতে পারবে না, শুধু পাশের জনকে জিনিস পাস করতে পারবে। যদি এক প্রান্তের মানুষ অন্য প্রান্ত একটা চিঠি পাঠাতে চায় তাহলে সে পাশের মানুষকে পাস করবে, সে আবার তার পাশের জনকে পাস করতে, এভাবে সে চিঠি পাঠাতে পারবে। কিন্তু কেউ একজন যদি না সাহায্য করে, তাহলে সে অন্য পথ বেছে নিবে। এবার কল্পনা করুন অনেকগুলো কম্পিউটার পরস্পরের সাথে তারবিহীনভাবে যুক্ত। তারাও একইভাবে ডেটা পাঠাতে পারবে। আর প্রতিটি ডেটা পাঠানোর সময় এনক্রিপড হয়ে যাবে যা প্রাপক ছাড়া আর কেউ পড়তে পারবে না।

মুক্তনেটে কিভাবে যুক্ত হতে হবে ও কি করা যাবে:

এই ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হতে টাকার দরকার নেই। বাসার আশেপাশে যারা এই নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত থাকবে তাদের সাথে ইথারনেট ক্যাবল বা ওয়াইফাই দিয়ে যুক্ত হলেই সবার সাথে যুক্ত হওয়া যাবে। কেউ দিতে নারাজ হলে আশেপাশের আরেকজনের কাছ থেকে কানেকশন নিবেন। এই বর্তমান ইন্টারনেটে যা করা যায়, এই ইন্টারনেটেও তাই করা যাবে। বিনামূল্যে ভিওআইপি, ইনস্ট্যান্ট টেস্কট ও ভয়েস মেসেজিং, ইমেইল, সেবা প্রদান(যেমন - টেলিহেল্থ, ই-লার্নিং ইত্যাদি), কমিউনিটিসহ যা যা কল্পনা করতে পারেন তার সবই করা যাবে। তাহলে এই ইন্টারনেট কি বিনামূল্যে পাওয়া যাবে ? হ্যাঁ, প্রায়। ইন্টারনেটকে সচল রাখতে হলে আপনাকে আপনার কম্পিউটার ও রাউটার সব সময় চালু রাখতে হবে এবং কম্পিউটারের অব্যবহৃত জায়গার ক্ষুদ্র পরিমাণ শেয়ার করতে হবে।

মুক্তনেটের লক্ষ্য:

আমাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি নিরাপদ ডি-সেন্টালাইজড ডিস্টিবিউটেড মুক্ত যোগাযোগ মাধ্যম(ইন্টারনেট) তৈরি করা যা মানুষের স্বাধীনতা ও প্রাইভেসি রক্ষা করে এবং এই প্রযুক্তি পৃথিবীর বিচ্ছিন্নতম এলাকায় ছড়িয়ে দেওযা। এমন একটি ইন্টারনেট যেখানে ডস বা ডিডস হবে ইতিহাসের অংশ যা ছেলেমেয়েরা বইয়ে পড়বে।

এখন করা প্রয়োজন:

বর্তমান ইন্টারনেটের গঠন এরকম আর ভবিষ্যৎ ইন্টারনেট এরকম। কিন্তু বর্তমানের ইন্টারনেট একদিনে হয় নি। এটিও একদিনে হবে না, ধীরে ধীরে হবে। যেহেতু এটি এখনও পরীক্ষাধীন অবস্থায় আছে, তাই যতক্ষণ এটির কার্যক্রম না শুরু হয়, ততদিন জ্ঞান অর্জন করতে থাকুন এবং সবাইকে সাহায্য করুন। আপনি যদি ডেভেলপার বা হ্যাকার হন, তাহলে অ্যাপলিকেশন তৈরিতে এবং দুর্বলতা বের করতে ও সংশোধন করতে সাহায্য করুন। সাহায্য করতে হলে যে কম্পিউটার দরকার এমনটি নয়। আপনি যদি কাউকে এ ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলতে পারেন, আপনি সাহায্য করছেন। আপনি যদি কাউকে এটি বোঝাতে পারেন, আপনি সাহায্য করছেন। আপনি যদি কাউকে নেটওয়ার্ক সেটাপ করতে সাহায্য করেন, আপনি সাহায্য করছেন। আপনি যদি কোনো নন-টেকি মানুষকে টিউটোরিয়াল বানাতে সাহায্য করেন, আপনি সাহায্য করছেন। যেকোনো ধরনের সাহায্যকে স্বাগতম জানাচ্ছি। তাই কাজে নেমে পড়ুন এবং নিজেকে ও অন্যকে সাহায্য করুন।
তো আমরা একে কি বলবো ? আমরা সবাই একে বলি "মুক্তনেট"। এতে সবার অংশগ্রহণ কাম্য কারণ "মুক্তনেট" আমাদের সবার সম্পদ, সবার ইন্টারনেট

বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার নয়, কোরআনিক বর্ণনা!!!!

বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার নয়, কোরআনিক বর্ণনা!!!!
আল্লাহ তাআলার পবিত্র বাণী আল-কুরআন- মহাবিশ্বের সমগ্র সৃষ্টির প্রমাণগ্রন্থ হল আল-কুরআন। সমগ্র সৃষ্টির উবংরমহ বিশ্ব সৃষ্টির বহু পূর্বে পবিত্র কোরআন শরীফে সুপ্ত অবস্থায় ছিল। পরবর্তীতে আল্লাহ ইচ্ছায় কুন আদেশ অনুযায়ী ধূম্র মন্ডলী বা গ্যাসীয় পদার্থ  হতে ৬ দিনে মহাবিশ্বের সমগ্র সৃষ্টি ক্রমশ প্রকাশ পেতে চলেছে এবং কিয়ামাত পূর্ব পর্যন্ত তা সম্প্রসারণ হতে থাকবে। বিজ্ঞানময় কোরআনের সৃষ্টির এসব তত্ত্ব ও তথ্যাদি জানতে হলে পবিত্র কোরআন শরীফ নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন  ও উচ্চতর গবেষণা আর আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞানে জ্ঞানবান হওয়া আবশ্যক।
১ – বিজ্ঞান কিছুদিন আগে জেনেছে চাঁদের নিজস্ব কোন আলো নেই। সূরা ফুরক্বানের ৬১ নং আয়াতে কুরআনে এই কথা বলা হয়েছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে।
২ – বিজ্ঞান মাত্র দুশো বছর আগে জেনেছে চন্দ্র এবং সূর্য কক্ষ পথে ভেসে চলে... সূরা আম্বিয়া ৩৩ নং আয়াতে কুরআনে এই কথা বলা হয়েছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে।
৩ – সূরা কিয়ামাহ’র ৩ ও ৪ নং আয়াতে ১৪০০ বছর আগেই জানানো হয়েছে; মানুষের আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে মানুষকে আলাদা ভাবে সনাক্ত করা সম্ভব। যা আজ প্রমাণিত।
৪ - ‘ বিগ ব্যাং’ থিওরি আবিষ্কার হয় মাত্র চল্লিশ বছর আগে। সূরা আম্বিয়া ৩০ নং আয়াতে কুরআনে এই কথা বলা হয়েছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে।
৫ – পানি চক্রের কথা বিজ্ঞান জেনেছে বেশি দিন হয় নি... সূরা যুমার ২১ নং আয়াতে কুরআন এই কথা বলেছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে।
৬ – বিজ্ঞান এই সেদিন জেনেছে লবণাক্ত পানি ও মিষ্টি পানি একসাথে মিশ্রিত হয় না। সূরা ফুরকানের ২৫ নং আয়াতে কুরআন এই কথা বলেছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে।
৭ – ইসলাম আমাদেরকে ডান দিকে ফিরে ঘুমাতে উৎসাহিত করেছে; বিজ্ঞান এখন বলছে ডান দিকে ফিরে ঘুমালে হার্ট সব থেকে ভাল থাকে।
৮ – বিজ্ঞান এখন আমাদের জানাচ্ছে পিপীলিকা মৃত দেহ কবর দেয়, এদের বাজার পদ্ধতি আছে। কুরআনের সূরা নামল এর ১৭ ও ১৮ নং আয়াতে এই বিষয়ে ধারণা দেয়।
৯ – ইসলাম মদ পানকে হারাম করেছে , চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে মদ পান লিভারের জন্য ক্ষতিকর।
১০ – ইসলাম শুকরের মাংসকে হারাম করেছে। বিজ্ঞান আজ বলছে শুকরের মাংস লিভার, হার্টের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
১১- রক্ত পরিসঞ্চালন এবং দুগ্ধ উৎপাদন এর ব্যাপারে আমাদের চিকিৎসা বিজ্ঞান জেনেছে মাত্র কয়েক বছর আগে। সূরা মুমিনূনের ২১ নং আয়াতে কুরআন এই বিষয়ে বর্ণনা করে গেছে।

১২ - মানুষের জন্ম তত্ব ভ্রুন তত্ব সম্পর্কে বিজ্ঞান জেনেছে এই কদিন আগে। সূরা আলাকে কুরআন এই বিষয়ে জানিয়ে গেছে ১৪০০ বছর আগে।
১৩ - ভ্রন তত্ব নিয়ে বিজ্ঞান আজ জেনেছে পুরুষই ( শিশু ছেলে হবে কিনা মেয়ে হবে) তা নির্ধারণ করে। ভাবা জায়... কুরআন এই কথা জানিয়েছে ১৪০০ বছর আগে। ( সূরা নজমের ৪৫, ৪৬ নং আয়াত, সূরা কিয়ামাহ’র ৩৭- ৩৯ নং আয়াত)
১৪ - একটি শিশু যখন গর্ভে থাকে তখন সে আগে কানে শোনার যোগ্যতা পায় তারপর পায় চোখে দেখার। ভাবা যায়? ১৪০০ বছর আগের এক পৃথিবীতে ভ্রুনের বেড়ে ওঠার স্তর গুলো নিয়ে কুরআন বিস্তর আলোচনা করে। যা আজ প্রমাণিত ! ( সূরা সাজদাহ আয়াত নং ৯ , ৭৬ এবং সূরা ইনসান আয়াত নং ২ )
১৫ – পৃথিবী দেখতে কেমন? এক সময় মানুষ মনে করত পৃথিবী লম্বাটে, কেউ ভাবত পৃথিবী চ্যাপ্টা , সমান্তরাল... কোরআন ১৪০০ বছর আগে জানিয়ে গেছে পৃথিবী দেখতে অনেকটা উট পাখির ডিমের মত গোলাকার।
১৬ – পৃথিবীতে রাত এবং দিন বাড়া এবং কমার রহস্য মানুষ জেনেছে দুশ বছর আগে। সূরা লুকমানের ২৯ নং আয়াতে কুরআন এই কথা জানিয়ে গেছে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে !!
আমাদের সমস্যা হল আমরা সব কিছুই জানি... যারা নাস্তিক তারাও জানে... পার্থক্য টা হল ' বোধ' ...
যেমন ধরুন একজন নেশাকর জানে যে নেশা করলেই তার জীবন নষ্ট হয়ে যাবে, যে ছেলে বাবা কে খুন করেছে সে জানে যে এই মানুষটি তাকে জন্ম দিয়েছে... সব জেনে শুনেই আমরা সব থেকে খারাপ কাজ গুলো করি... ব্যাপারটা অজ্ঞানতার না ব্যাপারটা ' বোধ' এর।
... আপনার এই বোধটা থাকতে হবে।
সব মানুষের ভেতরে দুটি মানুষ থাকে।
মাঝে মাঝে একজন মনে করিয়ে দেয়- নামাজ পড়া জরুরী তখন আরেকজন বলে –আজ না; কাল থেকে শুরু করব।
একজন সিদ্ধান্ত নেয়- আর মদ খাব না। সাথে সাথে আরেকজন বলে ওঠে – আজ খাই; কাল ছেড়ে দিব।
আগামীকাল সব সময়ই আগামীকাল। শয়তান খুব সুক্ষ ভাবে আমাদের ব্রেন ওয়াস করে। আমরা কখনোই বলিনা না যে – আমি আর কখনো নামাজ পড়ব না অথবা দশ বছর পর পড়ব।
শয়তান চালাকি করে আমাদের বুঝ দেয় এইতো কাল থেকেই পড়ব।
তবে আগামীকাল আর আসে না। এলেই আমরা ভাল হয়ে যাব। আমরা শুধু আজকের জন্য খারাপ।
সাফল্য ব্যার্থতা বলে আসলে কিছু নেই। জীবনের মূল বক্তব্য- কবর। জন্মের আজান আদায় হয় জানাযায়। জন্মের ঋণ শোধ হল মৃত্যুতে। এটাই সত্য। বাকি সব মিথ্যা।
Designed by HelpZoon Design

Powered by Helpzoon